রিহ্যাব নেতা ও এমিটি এপার্টমেন্ট এন্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুরুদ্দীনের বিরুদ্ধে নিজেকে ‘প্রধানমন্ত্রীর লোক’ হিসেবে জাহির করে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে তিনি নির্মাণ করেছেন বেশ কয়েকটি অবৈধ বহুতল ভবন। মাসকয়েক আগে তার ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে এবং তার নির্মিত ভবনে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে সিডিএ।
রিহ্যাবের কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার
সি ভিশনের হাতে আসা রিহ্যাবের একটি কারণ দর্শানোর নোটিশে (স্মারক নং- রিহ্যাব/নি.বো./২০২৬/০৮, তারিখ: ১৫/০৩/২০২৬) নুরুদ্দীনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এমিটি এ্যাপার্টমেন্ট এন্ড ডেভলপার লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নুর উদ্দিন আহাম্মদ বরাবর এই নোটিশটি পাঠানো হয়।চিঠিতে উল্লেখ করা হয় গত ১২/০৩/২০২৬ তারিখে তিনি নির্বাচন বোর্ডে উপস্থিত হয়ে পূর্বের একটি নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় নিয়ে নির্বাচন বোর্ডের সচিবের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন এবং বলপ্রয়োগ করে অভিযোগ গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
এছাড়াও তিনি পরিচিত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক পরিচয়ে এক ব্যক্তির মাধ্যমে সচিবকে মুঠোফোনে হুমকি-ধামকি দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে, তিনি নিজেকে “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের লোক” বলে দাবি করে সচিবের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনী আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এই অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে সেসময় রিহ্যাব নির্বাচন বোর্ড (২০২৬-২০২৮)-এর চেয়ারম্যান মো: জহিরুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তাকে ২৯ মার্চ রবিবার বিকাল ৫টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।
চিঠি কিংবা চিঠিতে উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে এমিটি ডেভেলপমেন্ট এর এমডি নুরুদ্দীনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ও রিহ্যাব নেতা পরিচয়ের আড়ালে চট্টগ্রামের লাভলেইন আবেদীন কলোনীসহ বিভিন্ন স্থানে সিডিএর অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ভবন নির্মাণ করেছেন এমিটির নুরুদ্দীন।
সম্প্রতি আবেদীন কলোনীতে তাদের নির্মিত ‘এমিটি সেলিম এনজেলিক’ ভবনে অভিযান পরিচালনা করে সিডিএ। ভবনটির ৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও অবৈধভাবে তা ১১ তলা পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়। সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানের টের পেয়ে ডেভেলপার নুরুদ্দীন এবং ল্যান্ড ওনার (জমির মালিক) শাকিল আবেদীন উভয়েই গা ঢাকা দেন। ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতি না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ওই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে অনুমোদনহীনভাবে অতিরিক্ত ৩টি তলা নির্মাণের দায়ে ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আদালত ল্যান্ড ওনারকে ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন এবং জরিমানা অনাদায়ে ৪ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এমিটি এপার্টমেন্ট এন্ড ডেভেলপার্স এবং এর এমডি নুরুদ্দীনের এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় আবাসন খাতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ গ্রাহক ও জমির মালিকদের সুরক্ষায় এমিটির অন্যান্য প্রকল্পগুলোর বিষয়েও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।

