রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬

অভিযোগ করে বিপাকে ব্যবসায়ী,আবু সায়েমের আয়নাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
- Advertisement -bsrm

গত ১৬ জুন ২০২৬ ইংরেজী তারিখে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অবস্থিত উৎসব সুপার মার্কেট এর চেয়ারম্যান মাঈনুল ইসলাম সোহেল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল ইসলাম আজাদের কাছে ইনভেস্টমেন্ট সহ লভ্যাংশের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে টালবাহানা,প্রতারণা ও হুমকি ধমকির শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমডি চেয়ারম্যান কে অভিযুক্ত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী ও সুপার শপ স্পেশালিষ্ট সাদেক আলী।

কিন্তু অভিযোগের পরপরই তদন্ত কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উৎসব সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও একটি কুচক্রী মহল,এমন দাবী করেছেন ব্যবসায়ী সাদেক আলী।

তিনি দাবী করেন,”আমার অভিযোগ টি এখনো তদন্তাধীন,পুলিশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে,কিন্তু পুলিশের সাভাবিক তদন্ত কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে,তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে আমি ভুক্তভোগীকেই তারা দোষী সাব্যস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে,তারা আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে অপপ্রচার করছে যার নেপথ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডি ।”

সাদিক বলেন,”সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি দেখতে পেয়েছি,উৎসব সুপার মার্কেটের বেশ কিছু কর্মচারী বিভিন্ন ভাবে আমার নামে লাগাতার কুৎসা রটিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ফেসবুকে পোস্ট করে যাচ্ছে,তারা তাদের পোস্টে লিখেছে আমি নাকি উৎসব সুপার মার্কেটের মালিকানা দাবী করছি,কিন্তু আমি আমার পুলিশ কমিশনার বরাবর করা অভিযোগে কোথাও মালিকানা দাবী করেছি কিনা তা খতিয়ে দেখলেই আপনারা সত্যতা পাবেন,আমি শুধু আমার ইনভেস্টমেন্টের টাকা লাভ সহ সঠিক হিসাব বিবরণীর মাধ্যমে ফেরত পেতে এবং তাদের হুমকি ধমকির বিপরীতে আইনী প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেছি।”SIBL

সাদেক আলীর এমন দাবীর সত্যতা মিলেছে সি ভিশনের অনুসন্ধানে,১৬ জুন পুলিশ কমিশনার বরাবর করা তার অভিযোগ পত্রের কোথাও মালিকানা দাবীর কথা উল্লেখ না থাকলেও, তিনি মিথ্যে তথ্য দিয়ে অভিযোগ করে উসব সুপার মার্কেটের মালিকানা দাবী করছেন এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন খোদ উৎসব সুপার মার্কেটের কর্মচারী সহ কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ট অনেকেই।

সাদেক আলী দাবী করেন একইভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে একটি অনলাইন গণমাধ্যমেও যার শিরোনাম ও প্রায় একইরকম “চুক্তিনামা ছাড়াই উৎসব সুপার শপের মালিকানা দাবি সাদেক আলী’র” এমন শিরোনামে অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে তদন্তের আগেই অভিযুক্ত এমডি শহীদুল ইসলামের বক্তব্যও তুলে ধরা হয় ঢালাওভাবে, সাদেক আলীর দাবী সেই প্রতিবেদনে শহীদুল হক আজাদের উল্লেখিত বক্তব্য তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারের বিষয়বস্তুর সাথে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।

অন্যদিকে ঐ প্রতিবেদনে বক্তব্য তুলে ধরা হয় উৎসব সুপার মার্কেটের আরেক ইনভেস্টর আবু সায়েমের,ঐ প্রতিবেদনে তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় ,”কোম্পানির অংশীদার হিসেবে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কোম্পানির সার্থে ভিন্নভিন্ন অংকের সিকিউরিটি মানি নিয়ে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মাসিক বেতন এবং লভ্যাংশ প্রদানের মৌখিক আলোচনায়।”

এছাড়া প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ঐ অনলাইন গণমাধ্যমটির প্রতিবেদক আবু সায়েমকে প্রশ্ন করেন,”কোম্পানির অংশীদার করার আশ্বাস দিয়ে সাদেক আলীসহ তাদের কাছ থেকে কোনো ধরণের অর্থ নেওয়া হয়েছিলো কি না এবং অংশীদারিত্বের কোনো চুক্তিনামা করা হয়েছিল কি না,”
এমন প্রশ্নের জবাবে আবু সায়েমের বক্তব্য উল্লেখ করা হয় যে,
“উৎসব সুপার শপে অংশীদারিত্ব নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি, চুক্তিনামাও হয়নি। মাসিক বেতন এবং অনির্দিষ্ট অংকের লভ্যাংশ প্রদানের (যখন যা পারে) মৌখিক চুক্তিতে আমরা উৎসব সুপার শপে যোগ দিয়েছি। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন (কনসালটেন্সি) আবার কেউ কেউ সার্বক্ষণিক সময় দেওয়ার দায়িত্বপালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়েছি।”

কিন্তু সাদেক আলীর পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে সি ভিশন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য উৎসব সুপার মার্কেটের ইনভেস্টর ও সাপ্লাইয়ার হিসেবে পরিচিত আবু সায়েমের কাছে সাদেক আলীর অভিযোগের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানতে চায়,তখন তিনি সাদেক আলীর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন(কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে),তিনি সি ভিশনের প্রতিবেদককে জানান,তিনি উৎসব সুপার মার্কেটের ব্যবসায়িক পার্টনার,তিনি ছাড়াও সাদেক আলীসহ সর্বমোট ৭ জন পার্টনার আছে,তিনি সাদেক আলীর ১২ লক্ষ টাকার বিপরীতে সর্বমোট ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশের সত্যতা নিশ্চিত করে বক্তব্য দেন(কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে),তিনি ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আমরা সবাই বিনিয়োগ করেছি কিন্তু আমাদের চুক্তিপত্র দেয়া হয়নি।”সি ভিশন কে দেয়া বক্তব্য আর অন্য একটি গণমাধ্যমে তার বক্তব্যে অমিল খুঁজে পায় প্রতিবেদক।সিভিশনকে দেয়া বক্তব্যে সিকিউরিটি মানির কোন কথা তিনি উল্লেখ করেননি বরংং তিনি জানিয়েছিলেন ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের কথা এবং সাদেক আলী ১২ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করেছিলেন যার বিপরীতে তাকে ৫ শতাংশ হারে লাভ দেয়ার কথা ছিলো।

হঠাৎ সপ্তাহ না পেরোতেই আবু সায়েমের বক্তব্য কেন বদলে গেলো,কেনোই বা তিনি ভিন্ন ভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করছেন তা জানতে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি সি ভিশনকে দেয়া তার প্রথমের বক্তব্য ভুল বলে জানিয়ে কথা বলতে অপারগতা পোষণ করেন।

তবে কেন তিনি ভোল পাল্টালেন এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনুসন্ধানে সি ভিশনের হাতে এসেছে একটি কল রেকর্ড,যেখানে আবু সায়েম অভিযোগকারী সাদেক আলীকে বলতে শোনা যায়,সাদেক আলীর করা অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের কারণে উৎসব সুপার মার্কেটের চেয়ারম্যান একাউন্টস ম্যানেজার জহিরকে নির্দেশ দিয়েছেন উৎসবের সাথে তার (আবু সায়েমের)সকল লেনদেন যেন স্থগিত রাখা হয়(কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে)।তার লেনদেন স্থগিত করায় তিনিও আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করবেন এমন কথাও শোনা যায় সে কল রেকর্ডে।

এ বিষয়ে সাদেক আলী বলেন, উৎসব সুপার মার্কেটে নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আবু সায়েম একেক গণমাধ্যমে একেক রকম বক্তব্য দিয়ে এক প্রকার আয়নাবাজি করছে।”

সাদেক আলীর এমন দাবী ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডি উভয়ের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

অন্যদিকে অভিযোগের পর তদন্তের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অভিযোগ করার কারণে লাগাতার হুমকির বিষয়ে খুব শীঘ্রই সাদেক আলী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান প্রতিবেদককে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও