চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অনুসন্ধান আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের আওতায় এবার সরাসরি তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজে নেমেছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় থেকে উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হামেদ রেজার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কাছে সম্পদসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। দুদক আইন, ২০০৪ ও দুদক বিধিমালা, ২০০৭ অনুযায়ী প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অনুসন্ধান পরিচালিত হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথিপত্র অনুযায়ী, সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ধারাবাহিকতায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত উৎস, ক্রয়মূল্য ও অর্থের প্রবাহ যাচাই শুরু করেছে সংস্থাটি।
অনুসন্ধান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নাছির উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন আক্তার, কন্যা ফাহমিদা তাসনিম নওশিন এবং পুত্র আবু সাদিক মোহাম্মদ তামজিদকে।
দুদক সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে আ জ ম নাছির এর ব্যবসায়িক পার্টনার সালা উদ্দিন ও জয় শীষকে দুদক তলব করেন এবং তাদের অফিসে অভিযানও পরিচালনা করেন।
পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ নাসিরাবাদ এলাকার দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডে তাদের নামে কোনো প্লট, ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক ইউনিট রয়েছে কি না। সে বিষয়ে বিস্তারিত মালিকানা রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হামেদ রেজা বলেন, “এটি প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্যায়। অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুদক সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ মিললে সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং সম্পদ জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

