বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬

দেশব্যাপী বিএনপি’র দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা অতঃপর সৃষ্ট পরিস্থিতি ও অভিমত

এস এম আকাশ
- Advertisement -bsrm

এখানে দুটো বিষয় জনগণের নজরে এসেছে ও স্বতন্ত্র বিশ্লেষণেও তা প্রতীয়মান…

১) যেহেতু দীর্ঘ দেড় যুগ পর বিএনপি মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল একটা স্বস্তির জায়গায় ফিরেছে সেহেতু যাত্রাটা কারোরই জন্যে সহজ ছিলনা। সুতরাং দলের ত্যাগী নেতাদেরকে অতীতের মতো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হলে পতিত আওয়ামী লীগের মতো সাংগঠনিক ধস নেমে আসবে। আর মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী সাংগঠনিক সার্ভে পছন্দের দায়িত্বশীল দ্বারা করলে ভুল হবে এবং পরিস্থিতি তার নিজস্ব অনুকূলতা হারাবে।
২) আজ হোক আর কাল হোক দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে এতে সমস্যা নেই কিন্তু তফসিলের এত আগে এমন ঘোষণা দলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। নির্বাচনী রুটম্যাপ ও কলাকৌশল নির্ধারণ এবং ইশতেহার পর্যালোচনা করার জন্য সবাইকে ব্যস্ত রাখাই হতো রাজনৈতিক চাল বা কৌশল। এখন দলের অভ্যন্তরের অসন্তোষ প্রতিপক্ষের জন্য দারুণ হাতিয়ার ও তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তনের বিরাট হেতুর জন্মদান। কিন্তু একটি প্রশ্নের উত্তর অসম্পন্ন থেকে যায় যে,জনগণ এখনও পরিস্কার নয় যে আগামী নির্বাচন বিএনপি একক ভাবে করবে না জোটগত ভাবে করবে। অপর দিকে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় দেশজুড়ে কিছু আসেন প্রার্থীর নাম প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে এতে আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর গন্ধ বিরাজমান বা পাওয়া যাচ্ছে যা কর্মী ও প্রার্থীরা বুঝতে পারে। এমনই অসাংগঠনিক ও একতরফা সিদ্ধান্ত কর্মীদের হতাশ করে।পাশাপাশি নৈতিক ও নীতির রাজনীতির প্রতি জনগণ ও কর্মীদের আস্থায় চিড় ধরে। এতে দলের নীতি আদর্শ প্রশ্নের সম্মুখীন হয় এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বা কাকতালীয় কিংবা কন্ডিশনালি যারা দল থেকে সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে ক্ষমতার স্বাদ পদের স্বাদ,এমপি মন্ত্রীত্বের স্বাদ এবং সুযোগ যারা একবার পায় সে বা তারা নিজ দলের নেতাকর্মী ও দলের দিকে আর না তাকিয়ে সকল নীতি আদর্শকে মাটিচাপা দিয়ে বনে যায় রাঘববোয়াল অত্যাচারী কোটিপতি ক্ষমতাশালী ও স্বৈরাচারী। সে বা তারা মনে করে সুযোগ বারবার আসেনা নগদ যা পাও হাত পেতে নাও বাকির খাতা শূন্য থাক। ঠিক এসকল নেতাদের জন্য ত্যাগী নেতাকর্মীরা অলস হয়ে অভিমানী হয়ে নিস্ক্রিয় বনে যায় এবং তখনই দল ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পড়ে এবং দলের মধ্যে সৃষ্টি হয় গুপ্তচর ও নিজ দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী। যারা দলের অভ্যন্তরে থেকে অন্যদেরকে পাচার করে নিজ দলের দূর্বলতা। আর ইতিহাস স্বাক্ষী এই সুযোগ টা নেয় প্রতিপক্ষে থাকা চৌকস রাজনৈতিক শত্রু ও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী।
প্রাসঙ্গিক মন্তব্যে ফিরি;
তারচেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরে তিনি নিজেই এ ঘোষণা দিলে দলীয় শৃঙ্খলা কখনোই নষ্ট হতো না বা হবে না এবং এমনটা করতও না এটা শতভাগ নিশ্চিত। কেননা তারেক রহমানের প্রতি বিএনপি ছাড়াও দেশবাসীর একটা বিশেষ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। যদি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভার্চুয়ালি ভাবে হলেও প্রতিটি আসনের জন্য গঠিত মনোনয়ন বোর্ডকে সাথে সংযুক্ত করে তিনি নিজেই সরাসরি দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতেন তবে দেশব্যাপী কর্মীদের মাঝে বিরুপ প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতো না এবং কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র কোন নেতাদের প্রতি তাদের অনাস্থার জন্ম হতো না।
সুতরাং সমাধান একটাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান কে প্রকাশ্যে এসে এ বিষয়ে পরিস্কার সিদ্ধান্ত দিতে হবে। এতে করে দলের সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি তৃণমূলের কর্মীদের আস্থা সংকট কমে আসবে বরং আস্থা ফিরবে।
মাথায় রাখতে হবে শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচন ও সরকার গঠনই শেষ নয় বা বিএনপির সফলতা নয়। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর পর স্থানীয় পর্যায়ে সকল জেলা শহরে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এর জন্য মূল রাজনৈতিক দল বিএনপিকে হাজারো সমালোচনার উর্ধে থেকে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের একতরফা প্রভাব ও চেপে দেয়া সিদ্ধান্ত গুলো যদি স্থানীয় নির্বাচনে পড়ে তবে গঠিত সরকারের প্রথম মেয়াদেই সব হারিয়ে আবারও নির্বাসনে যেতে হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কে।

জনগণের পরিস্কার আকাঙ্খা ও চাওয়া স্বৈরতন্ত্রের মৃত্যু ঘটেছে বাংলাদেশে সুতরাং আবারও যেন এই ধারাবাহিকতা পুনরায় জন্ম না নেয়।

এস এম আবুল বরকত আকাশSIBL

জাতীয় নাগরিক অধিকার

ও নির্বাচন বিশ্লেষক।

প্রধান নির্বাহী:এমএমওইউ,

ঢাকা বাংলাদেশ। ৪ঠা নভেম্বর ২০২৫।

 

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও