চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর ছোট পুল এলাকায় নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনকে ঘিরে যে কোটি টাকার দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তার কেন্দ্রে রয়েছেন ইউসুফ শাহ সাজু। পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে ভুয়া সিডিএ প্রকৌশলী পরিচয়ে সাজু দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাইল নং ১৩৪/২৪-এর আওতায় নুরুল্লাহ গং-এর মালিকানাধীন একটি প্লটের জন্য সিডিএ ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেয়। কিন্তু প্রকল্প মালিকের চাহিদা ছিল ১৩ তলা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাজু প্রথম দফায় হাতিয়ে নেন প্রায় ৭১ লাখ টাকা। পরে এই অর্থ ভাগাভাগি হয় সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসের পিএ মো. হোসেন, প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে।
*সাজুর স্বীকারোক্তি ও অতীত ইতিহাস-*
অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করে ইউসুফ শাহ সাজু বলেন, “এই ঘটনায় প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিন ও প্রধান প্রকৌশলীর পিএ হোসেন জড়িত। নইম উদ্দিন ও হোসেন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ১৩ তলার অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।”
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এটি সাজুর প্রথম ঘটনা ছিল না। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও তিনি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নানা প্রকল্প মালিকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সাজু মূলত সিডিএ’র ভেতরের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে অনুমোদন বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
*দায় এড়ানো আর দালালি-*
আরেক অভিযুক্ত নইম উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি ২০২৪ সালের। কে কত টাকা নিয়েছে তা আমি জানি না। তবে ইউসুফ শাহ সাজু ও পিএ হোসেন বিষয়টি পরিচালনা করেছে।”
প্রধান প্রকৌশলীর পিএ হোসেনও দায় এড়িয়ে বলেন, “টাকা নেওয়ার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। শুধু ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করেছিলাম যাতে ১৩ তলার অনুমোদন দেওয়া হয়।”
*সিডিএ’র ভেতরের নীরবতা-*
সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, “এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে আমি শুনেছি। বেশ কয়েকবার আমার কাছে তদবিরও এসেছে। কে কোথায় কত টাকা নিয়েছে, তা আমি জানি না। শুধু অনুমোদন প্রক্রিয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছিলাম।”
অন্যদিকে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, “আপনারা সংবাদ প্রস্তুত করুন, প্রমাণ আমাকে দিন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
*দালালচক্রের নিরাপদ আশ্রয় সিডিএ-*
প্রমাণিত কল রেকর্ড, নগদ টাকার লেনদেন ও সরাসরি স্বীকারোক্তি সবকিছুই স্পষ্ট করছে, সাজুই অনুমোদন বাণিজ্যের মূল হোতা। তার প্রতিষ্ঠান পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড এর দুর্নীতিই কেবল আড়াল।
সংর্শ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিডিএ’র ভেতরে কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়া না থাকলে একজন দালাল বছরের পর বছর ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা চালাতে পারতেন না।
অনেকেই বলছেন, সিডিএ এখন উন্নয়ন নয়, দালালচক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আর ইউসুফ শাহ সাজুর মতো দালালরা কোটি কোটি টাকা লুট করেও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

