
‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা অধিকার রক্ষা পরিষদ’ এর উদ্যোগে আজ রবিবার বিকালে ষোলশহর রেল স্টেশন সংলগ্ন চত্বরে ” অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে কি চাই?’ শীর্ষক একটি গণমতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে গৃহকর্মী,গার্মেন্টস শ্রমিক, রিক্সা শ্রমিক, দিনমজুর, ফেরিওয়ালা, ক্ষুদ্র দোকানদারসহ বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ এবং ছাত্র-শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমর জিহাদ সমুদ্র।এ মতবিনিময়সভায় বক্তব্য রাখেন শহীদ রুমী স্কোয়াডের সভাপতি আসমা আক্তার, গৃহকর্মী আন্জু আরা বেগম, হাজেরা বেগম, জমিরন,সাথী বেগম,নূপুর,জোবাইদা খাতুন, ভূমিহীন ফিরোজা বেগম, এলাকার প্রতিনিধি রশিদ মিয়া,ভাসমান ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান, গার্মেন্টস শ্রমিক সুমী,দিনমজুর রাশেদ,ক্ষুদ্র দোকানদার চম্পা রানী দেবনাথ, ঝাড়ুদার আনোয়ারা,যুব প্রতিনিধি শাহীন,ইউনুস, শিক্ষার্থী সাদেক রহমান,ফারহান তানভীর অতুল,জ্যোতি বড়ুয়া,জাবিদা আলশা,কিশোর প্রতিনিধি বিপ্লব, হাবিবুর রহমান, সুমন মুন্সী, হৃদয়, শিশু প্রতিনিধি ও গৃহকর্মী আদুরী।
মতবিনিময়সভায় বক্তারা বলেন,“ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে।এ আন্দোলনে ছাত্র- জনতার আকাঙ্খা ছিল সকল বৈষম্যের অবসান হবে,এমন একটি রাষ্ট্র হবে যেখানে বৈষম্য-নিপীড়ন-নির্যাতন,দুর্বলের উপর সবলের জুলুম থাকবেনা।ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তাই আমাদের প্রত্যাশা,তারা নির্বাচন দেয়ার পূর্বে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কার করবেন। জনগণের মতামত নিয়ে রাষ্ট্রের সকল স্তরের বৈষম্য নিরসন,শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা,দখলদারিত্ব- সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-মাদক-কিশোর গ্যাং বন্ধ,নির্যাতন- নিপীড়ন বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। মায়েরা চাননা তার সন্তান আবার অস্ত্র নিয়ে কথিত ‘বড় ভাই’-এর পেছনে ঘুরবে বা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে মাদক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ুক।আমরা সব মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা চাই,দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চিরতরে বন্ধ চাই।শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ভূমিকা নিতে হবে।একইসাথে ছাত্র-শ্রমিক- জনতাকেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বৈষম্যবিরোধী লড়াইয়ে।”
মতবিনিময়সভা থেকে বক্তারা অবিলম্বে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম কমানো, শ্রমজীবীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-মাদক-জুয়া- কিশোর গ্যাং বন্ধ,নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ করা,গৃহকর্মীদের শ্রম আইনে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও সরকারিভাবে নূন্যতম জাতীয় মজুরি ঘোষণা,সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করা,গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২৫০০০ হাজার টাকা ঘোষণা করার উদ্যোগ নিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।



