বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬

ফুটপাতে দোকান নির্মাণ করে লাখ টাকার বানিজ্য: এলাকাবাসীর ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
- Advertisement -bsrm

নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ফুটপাত দখলের পর সেখানে দোকান নির্মাণ করে লাখ টাকার বানিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে হাসেম সওদাগর নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দোকানগুলো সিডিএ থেকে উচ্ছেদ করা হলেও ঈদের সরকারি ছুটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি সেগুলো পুনরায় দখলে নেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পাহাড়তলী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেও জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়তলী বারো কোয়াটার এলাকায় পিবিআই অফিস সংলগ্ন সড়কের পাশে হাসেম সওদাগরের একটি বহুতল ভবন রয়েছে।

গত বছরের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে, তিনি তার ভবনের পাশের সড়কের জায়গাটিতে দোকান নির্মাণের কাজে হাত দেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্মকর্তারা। সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ মো.তানজিব হোসেনের নেতৃত্বে চলা অভিযানে, দোতলা বিশিষ্ট দোকানগুলোর উপরের তলার সবগুলো এবং নিচের তলার প্রতিটি দোকানের দেয়াল-ফ্লোর ও শাটার ভেঙ্গে গুরিয়ে দেয়া হয়। এবং ভাঙ্গা দোকানের অবশিষ্ট অংশগুলো দখলদারদের সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়।

স্থানীয়রা আরো জানান, অভিযান শেষে তিনি ভাঙ্গা দোকানগুলোর অবশিষ্ট অংশ না সরিয়ে, সিডিএর অসাধু সদস্য ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে সেখানে পুনরায় দোকান নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেন। সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগে, দিনরাত কাজ চালিয়ে তিনি দোকানগুলো পুনরায় নির্মাণ করেন।SIBL

উচ্ছেদকৃত দোকানগুলো পুনরায় দখলের ঘটনায় এলাকাবাসীর পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) সদস্যরাও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি তৈরি করা সাতটি দোকানের মধ্যে একটি মুদি দোকান ও একটি ফলের দোকান হিসেবে ইতিমধ্যে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এ সময় পরিচয় গোপন করে মুদি দোকানির কাছে ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে হাসেম সওদাগরের ভাই পরিচয় দিয়ে বলেন, চালু হওয়া দোকান দুটি এককালীন ১৫ লক্ষ টাকা জামানত ও মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে দেয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদক বড় একটি দোকান ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে, শুধুমাত্র একটি দোকানের জন্য তিনি এককালীন ২০ লক্ষ টাকা ও প্রতি মাসে বিশ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন।

অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে লাখ টাকার বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হাসেম সওদাগর এটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তার কেনা জায়গা বলে দাবি করেন। তবে কেনা জায়গায় ঠিক কি কারণে উচ্ছেদ হলো এবং উচ্ছেদের পর তিনি দোকানগুলো ঈদের সরকারি ছুটির সময় কেন পুনরায় নির্মাণ করলেন জানতে চাইলে তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ মো.তানজিব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন এবং তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও