চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র মো. খাইরুল ইসলামের (১৬) এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। টানা দশ দিন সম্ভাব্য সবস্থানে খোঁজাখুঁজির পর কোনো হদিস না পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে তার মা সেলিনা আক্তার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। খায়রুল সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের খোকন ড্রাইভারের ছেলে। সে জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
খায়রুলের মা সেলিনা আক্তার বলেন, গেল ৩ নভেম্বর সকালে ঘর থেকে বাইরে যায় খায়রুল। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম শহর, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সবস্থানে খায়রুলের খোঁজ করা হয়। সন্ধান না পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো খায়রুলের সন্ধান মেলেনি।
খায়রুলের নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে তার মা সেলিনা আরও বলেন, করোনাকালে স্কুলে অনলাইন ক্লাস শুরু হলে টানাপোড়নের সংসারে ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পড়ালেখা ঠিক রাখার জন্যে এনড্রয়েড ফোন কিনে দিই। কিন্তু আস্তে আস্তে সে মোবাইল গেইমে আসক্ত হয়ে ওঠে। নিয়মিত স্কুলে যেতে চাইতো না। ৩/৪ মাস আগে ফোন আমার আয়ত্বে নিয়ে নিই। মাঝে মধ্যে আমার কাছ থেকে নিয়ে গেইম খেলতো। সামনে পরীক্ষার কারণে ২০/২৫দিন আগে মোবাইল নিয়ে গেইম খেলা একদম বন্ধ করে দিই। এরপর থেকে ছেলের মাথা অনেকটা এলামেলো হয়ে যায়। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করলেও নিয়মিত স্কুলে যেতে চাইতো না। এ নিয়ে একটু মনোমালিন্য হয়েছে আমার সাথে। কিন্তু এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাবে কোনোদিন কল্পনাও করেনি।
এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই জালাল এর কাছে নিখোঁজ-সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চাটগাঁর বাণীকে বলেন, মোবাইল ফোনে আসক্ত ছেলেটি বিয়ে করতে চেয়েছিলো। বিয়েতে বাধা দেয়ায় তার মা সেলিনার সাথে ছেলের মনোমালিন্য হলে চলতি বছরের আগস্ট মাসে বাড়ি থেকে খায়রুল শহরে চলে যায়। যেহেতু তার মা নিখোঁজের জিডি করেছেন আমরা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

