কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ‘আওয়ামী লীগপন্থী’ ১৯ জন ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত (৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের কলাতলী সড়কের হোটেল-মোটেল জোনের ইউনি রিসোর্টের পঞ্চম তলার বলরুম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটকরা সেখানে বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস) কক্সবাজার জেলার ব্যানারে ‘রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় উন্নয়নে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া সভায় জেলার প্রায় শতাধিক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান অংশগ্রহণ করে।
উখিয়ার বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত পালংখালীর ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে ‘আওয়ামী লীগপন্থী’ ইউপি সদস্যদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান।
ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যরা ইউনি রিসোর্টে গোপন বৈঠক করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচলনা করা হয়েছে। প্রশাসন বা কারো কাছ থেকে এই বৈঠকের অনুমতি নেয়া হয়নি।’
সভায় অনেক ইউপি সদস্য অংশ নেন উল্লেখ করে তিনি জানান, যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে আটক হওয়া টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জহির আহমেদ বলেন, ‘জেলার ইউপি সদস্যের নিয়ে গঠিত সংগঠন মেম্বারস অ্যাসোসিয়েশনর আলোচনা সভা ছিল। আমরা প্রায় ৭০ জনের মতো ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলাম। সেখানে দেশের ক্রান্তিকালে কীভাবে কাজ করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। হঠাৎ অতর্কিতভাবে পুলিশ ও সমন্বয়ক ঢুকে আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে আটক করে। আমাদের যদি গোপন বৈঠক থাকতো তাহলে সড়কের পাশে হোটেলে এতবড় অনুষ্ঠান হতো না। আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া মহেশখালী এলাকার ইউপি সদস্য সেলিম জানান, শুক্রবার আমাদের মেম্বারস অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভা ছিল। সেখানে সব রাজনৈতিক দলের মানুষও ছিল। কিন্তু এভাবেই আমাদের ভাইদের আটক করা হয়েছে, সেটির তীব্র নিন্দা জানাই।

