রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং ইম্পেরিয়ালের উদ্যোগে বিশ্ব পোলিও দিবস উদযাপন ও সেমিনার গতকাল (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিডিজি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আহাদ।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সিপি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নান্টু, ক্লাব সেক্রেটারি উজ্জ্বল কান্তি বড়ুয়া, পিপি এডভোকেট আরশাদুর রহমান রিটু, পিপি মাসুদুর রহমান খান, পিপি মাসুদুর রহমান মজুমদার, পিপি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, পিপি রকি উদ্দিন রিপন, পিপি জেবুন্নেছা বেগম, রোটারিয়ান সাহাবুদ্দিন, রোটারিয়ান কলি আক্তার, রোটারিয়ান রফিক আহমেদ, রোটারিয়ান আব্দুর রহিম মানিক, রোটারিয়ান কাজী কামরুল ইসলাম চুন্নু, অতিথি রোটারিয়ান জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
প্রধান অতিথি বলেন, বিশ্বে পোলিওনির্মূলে রোটারির একক কৃতিত্ব। বিশ্ব এখন পোলিও মুক্তির দ্বারপ্রান্তে। বিশ্ব পোলিও দিবস রোটারি ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জোনাস সালকের কাজের স্মরণে, যিনি ১৯৫৫ সালে প্রথম সফল পোলিও ভ্যাকসিন তৈরি করেছিলেন। তাঁর টিকা নাটকীয়ভাবে পোলিও কেস হ্রাস করেছিল কিন্তু সম্পূর্ণ নির্মূলের জন্য লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এখানে বিশ্ব পোলিও দিবসের সাথে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক রয়েছে: ১.জোনাস সালকের নিষ্ক্রিয় পোলিও ভ্যাকসিন (IPV) এর প্রবর্তন।২. আ্যলবার্ট সাবিন দ্বারা তৈরি ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV), যা টিকাদান কর্মসূচির জন্য ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়। ৩. রোটারি ইন্টারন্যাশনাল পোলিও পালস প্রোগ্ৰাম চালু করে, পোলিও নির্মূল করার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। ৪.রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা গ্লোবাল পোলিও নির্মূল উদ্যোগ (GPEI) চালু করা হয়েছিল। ৫.আমেরিকাকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ৬.ঢীন ও অস্ট্রেলিয়া সহ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পোলিও মুক্ত হয়েছে। ৭. WHO কর্তৃক বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ৮.বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকান অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা দেয়া হয়। এসব মাইলফলক একটি পোলিওমুক্ত বিশ্বের দিকে ব্যাপক অগ্ৰগতি সাধন করে।
উল্লেখ্য ১৯৮৫ সালে ফিলিপাইনে প্রথম পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে রোটারি পোলিও নির্মূলের জন্য পরিকল্পনা শুরু করে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ,ইউনোসেফসহ বিশ্বব্যাপী পোলিও টিকা খাওয়ানো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজ বিশ্বের দুটো দেশে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ৪৪ টি পোলিও রোগী রয়েছে।রোটারিয়ানরা স্বপ্রণোদিত হয়ে পোলিও ফান্ডে অর্থ প্রদান করেন। পাশাপাশি বিলগেটস ও মেলিন্ডা ফাউন্ডেশনসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। প্রতিটি শিশুকে পোলিও থেকে রক্ষা করতে পোলিও টিকা দেয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব পোলিও দিবস পালিত হয়ে আসছে। চিটাগাং ইম্পেরিয়াল সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ক্লাবের উত্তরোত্তর সফলতা ও সমৃদ্ধ কামনা করে ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন সিপি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নান্টু। সভাপতি সভার মুলতবি ঘোষণা করেন।


