“শ্রমিক লীগের নেতা থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে চকবাজার জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব নিজাম” শিরোনামে গত ৩ জুলাই একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত তথ্যকে মনগড়া,ষড়যন্ত্রমূলক,উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার বলে দাবী করেছেন নিজাম উদ্দিন।৫ জুলাই দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে এমন তথ্য তুলে ধরে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান ঐ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন।
নিজাম উদ্দিনের বিবৃতিঃ
‘কর্ণফুলী অনলাইন মিডিয়া’ নামের একটি ফেসবুক পেইজে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া, ষড়যন্ত্রমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। ‘গণমাধ্যম’ সেজে বসা ওই ফেসবুক পেইজে বলা হচ্ছে, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে, আমি একব্যক্তিকে জেলে পাঠিয়েছি।আমি দায়িত্বের সঙ্গে স্পষ্ট বলতে চাই, এটি কথিত অভিযোগ। পুরোই কাল্পনিক, মিথ্যা বানোয়াট ও মানহানিকর।যে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এই নাটক মঞ্চায়নের চেষ্টা চালানো হয়েছে, তিনি বর্তমানে মেঘনা পেট্রোলিয়াম-এর জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং যাত্রাবাড়ি থানায় একটি মামলার ২নং আসামি। ওই লোক আওয়ামী লীগের আমলে সবচেয়ে বেশি সুবিধাবাদী এবং আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে কথিত মন্ত্রী ও এমপিসহ, আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে একাধিক ছবিও রয়েছে, তার।
আমার বক্তব্য না নিয়ে মনগড়া অপপ্রচারের বিরুদ্ধে, দেশের প্রচলিত আইন অনুসরণে, উপযুক্ত প্রতিকার পেতে, শিগগিরই আইনি মোকাবেলায় করবো।ভিডিওটি পতেঙ্গা এলাকায় ইস্টার্ন ক্যাবলসে,সেখানে শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে বের করে দেওয়া তারা আমাকে বিষয়টি অবগত করে তখন আমি তাদের ন্যায্যা দাবী আদায়ের জন্য কয়েকজন সহযোদ্ধাসহ সেখানে যাই, তাও ৪-৫ মাস আগের। অথচ ওইব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র দুইদিন আগে, কোতোয়ালি থানার একটি মামলায়।
ভিডিওতে কোথাও “টাকা দাবির” কোন তথ্যউপাত্ত না থাকার পরও এটিকে ‘চাঁদাবাজির’ তকমার ঢাল হিসেবেই ব্যবহার করছে, একটি চক্র। ভিডিওটি ভালোভাবে দেখলে যেকেউই স্পষ্টই বুঝতে পারবে, চাঁদাবাজি বা টাকার কোনো প্রসঙ্গই নেই। এই ভিডিওকে কাটছাঁট ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার মানহানি ও আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।
এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার, মানহানিকর বিকৃত তথ্যের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনি প্রতিকার চাইবো।
আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—যদি কেউ এই ঘটনার সাথে আমার কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি সংগঠনের বিধিমালা অনুযায়ী যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত এবং দেশের প্রচলিত আইনের আলোকে যথাযথ শাস্তি মাথা পেতে নেব।
সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ জনগণের কাছে বিনীত আহ্বান—এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে, সত্য যাচাই করে অপপ্রচারকারীদের রুখে দাঁড়াতে, আমার নৈতিক অবস্থানের পাশে থাকুন। সত্যের জয় হবেই
নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রচারিত ফেসবুক পোস্টঃ
এর আগে গত ৩ জুলাই নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মেঘনা পেট্রোলিয়াম শ্রমিকলীগ নেতা হামিদুর রহমান থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াতের বাগমনিরাম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সেক্রেটারি নওশেদ জামালকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।প্রচারিত ফেসবুক পোস্টে কারাগারে পাঠানো মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কর্মচারী নওশেদ জামাল নামের সেই ব্যক্তিকে জামায়াতের বাগমণিরাম ওয়ার্ডের রুকন ও দায়িত্বশীল বলে দাবী করা হয়।পোস্টে এ ও উল্লেখ করা হয় যে,নিজাম উদ্দিন তার লোকজন পাঠিয়ে কোতোয়ালি থানার ওসির সাথে কন্টাক্ট করে আগ্রাবাদ অফিস থেকে ধরে নিয়ে থানায় ঢুকিয়ে বৈষম্যেবিরোধী মামলায় গ্রেফতার দেখাতে বলে ঐ ব্যক্তিকে।
এছাড়া শ্রমিকলীগ নেতা হামিদকে ছাড়িয়ে নিতে এবং নতুন মামলায় গ্রেফতার না দেখাতে নিজাম উদ্দিন কোর্ট বিল্ডিং এবং চান্দগাঁও থানায় তদবির করে বলে প্রচার করা হয় সেই পোস্টে। উল্লেখ করা হয় শ্রমিকলীগ নেতা থেকে টাকা নিয়ে যাত্রবাড়ি থানার একটা মামলায়ও নওশেদ জামালের নাম ঢুকিয়ে দেয় নিজাম। প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে আওয়ামীলীগের আমলে ব্যবসায়িক কারণে মেঘনা প্রেট্রোলিয়ামের কমিটির পক্ষ থেকে আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ তোলা নওশেদ জামাল এর যৌথ ছবি৷
প্রচার করা হয় ভিডিওঃ
এছাড়া পরবর্তীতে “শ্রমিক লীগের নেতা থেকে টাকা নিয়ে জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানো,চট্টগ্রাম মহানগর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নিজামের কল রেকর্ড, আরও ২ জন রয়েছে কারাগারে পাঠানোর টার্গেট” শিরোনামে একটি ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করা হয় ফেসবুক পেজটি থেকে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম মহানগর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নিজামের বিরুদ্ধে শনিবার ৫ জুলাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে জামায়াত নেতা দাবি করা নওশেদ জামালের স্ত্রী।
অনুসন্ধানে যা উঠে এলোঃ
ফেসবুক পেইজে প্রচারিত পোস্ট ও ভিডিওতে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে নিজাম উদ্দিনকে কল করা হলে তিনি বলেন “যে পোস্টটি করা হয়েছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে আমি আমার বিবৃতি দিয়েছি,আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি।৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওর বিষয়ে প্রশ্ন করলে নিজাম উদ্দিন জানান,তারা যে ভিডিও টি প্রচার করেছে সে ভিডিওটি অপ্রাসঙ্গিক,ভিডিওটির সাথে তাদের তোলা কথিত অভিযোগের কোন মিল নেই,আমার একটি ব্যক্তিগত কথোপথনের ভিডিও প্রকাশ করে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত,যে ভিডিও টি প্রচার করা হচ্ছে সেটি মূলত পতেঙ্গা এলাকার ইস্টার্ণ ক্যাবলস এর চেয়ারম্যান এর রুমে করা,সেখানে আমি মূলত গিয়েছিলাম চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ এর ছাত্রশিবিরের সদস্য মামুন নামে এক সহযোদ্ধার ডাকে,প্রায় ৪-৫ মাস আগে ৪০ জন শ্রমিককে সেদিন সেই প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত করা হচ্ছিলো এমন অভিযোগ পেয়েছিলাম,তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য আমি সেদিন সেখানে গিয়েছিলাম”,নিজাম উদ্দিন পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে,”যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে তাতে কি তারা আমার ১০ লাখ টাকা লেনদেন কিংবা এরকম কোন বিষয় তুলে ধরতে পেরেছে?তারা এটিকে কোতোয়ালী থানার ওসির রুম বলে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে,সেটি কি ওসির রুম?আপনারা সাংবাদিক আপনারা তুলে ধরুন কোনটা সত্য,আমি আইনী ব্যবস্থা নিবো,আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে”।
অপরদিকে নিজামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর করা অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে থাকা মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সেই কর্মচারী নওশেদ জামালের স্ত্রী উল্লেখ করেন,তার স্বামী জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং একজন রুকন কিংবা সদস্য,এছাড়া তিনি বাগমনিরাম দক্ষিণ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করে আসছিলো।কিন্তু অনুসন্ধান বলছে ৫ আগস্টের পূর্বে নওশেদ জামাল ছিলেন আওয়ামীপন্থী শ্রমিকলীগ নেতা।গত ১১/০৭/২০২৪ ইংরেজী তারিখে মেঘনা পেট্রোলিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন’র(রেজিঃ নং বি- ২২১২) তার স্বাক্ষরিত প্যাডে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয় সেই চিঠি হাতে এসেছে সি ভিশনের। চিঠিতে মেঘনা পেট্রোলিয়াম শ্রমিক ইউনিয়ন,রেজিঃ নং বি ১৮৩৩ কে একটি জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত ইউনিয়ন দাবী করে অভিযোগ করেন,একইসাথে সেই চিঠিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেন নওশেদ জামাল।এছাড়া আওয়ামীলীগের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের আওয়ামীলীগ নেতা,কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা ও এমপি মন্ত্রীদের সাথে রয়েছে একাধিক ছবি।

জামায়াত নেতা দাবী করা নওশেদ জামাল কি আদৌ জামায়তের রাজনীতির সাথে যুক্ত কিনা এমন তথ্য নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের প্রচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুহাম্মদুল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন নি,তিনি জানাজায় আছেন, পরবর্তীতে যাচাই বাছাই করে জানাবেন বলে জানান।
অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন বেশ কিছুদিন ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয়ে নেজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আমার স্বামীর কাছ থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো।
দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে ও পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগের বিষয়ে জানতে নওশেদ জামালের স্ত্রী রিয়াজুল জান্নাত নামে ওই নারীর নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও ঐ নম্বরে সংযোগ মেলেনি।দুই কোটি দাবী করার বিষয়ে এর আগে নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতে কোনধরনের জিডি কিংবা আইনী ব্যবস্থার তথ্যও পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ফেসবুক পেইজে প্রচারিত অভিযোগে অন্য এক শ্রমিকলীগ নেতা থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রচার করা হলেও সেই ফেসবুক পেইজ থেকে এবিষয়ে কোন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে দেখা যায় নি।
এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী মহলে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্র থেকে শোকজ করা হয়েছে নিজাম উদ্দিনকে।

