বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপকূলে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বালুর ব্যবসা, বাঁধ হুমকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
- Advertisement -bsrm

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলের ১০ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় চলছে নির্বিচার বালু উত্তোলন। সাগরের মধ্যে ড্রেজার বসিয়ে এই বালু তোলা হচ্ছে। সাগর থেকেই এসব বালু নৌযানে করে বিক্রি হচ্ছে। মূলত বিকেল থেকে রাতভর চলে বালু তোলার কাজ। নির্বিচার বালু তোলার কারণে সীতাকুণ্ডের কুমিরার আলেকদিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে পড়েছে উপকূলের জনবসতি।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী, বালু বা মাটি উত্তোলনের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ঢাল সংরক্ষণ করতে হবে। সুষম স্তরে খনন করা যায় তেমন ড্রেজার ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিতে হবে। তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। নেওয়া হচ্ছে না অনুমতি। কারখানা ও জাহাজভাঙা ইয়ার্ড সচল করার নামে বালু তোলা হলেও আদতে সেখানে বালুর ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন উপকূলের বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, দেড় শতাধিক ইয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে ৩৫টির মতো সচল রয়েছে। কিন্তু জাহাজ আছে ১০ থেকে ১৫টিতে। ব্যবসার মন্দাভাব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এখন জাহাজ আনার বদলে ইয়ার্ড সচল রাখার নাম দিয়ে বালু উত্তোলনে ঝুঁকেছেন ইয়ার্ডের মালিকেরা। চর জেগে ওঠার কারণে জাহাজ ভিড়তে পারে না বলে অজুহাত দেন ইয়ার্ডের মালিকেরা। এই অজুহাতে তারা বালু তোলেন। তবে এ ক্ষেত্রে সবাই অনুমতি নেন না।

বর্তমানে শামা ইন্টারন্যাশনাল, রাইজিং স্টিল, সেভেন বিসহ বিভিন্ন ইয়ার্ড এখন এই বালু তোলার ব্যবসায় নেমেছে। অবৈধভাবে বালু তোলার দায়ে কুমিরা ঘাটসংলগ্ন ডব্লিউ ডব্লিউ ট্রেডিং নামে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডকে তিনবার জরিমানা করা হয়েছিল। তবে এরপরও বালু উত্তোলন চলছে।SIBL

যেভাবে হাতবদল বালুর ব্যবসা: ১০ বছর ধরে সীতাকুণ্ডে বালু তোলার কাজ চলছে। তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আল মামুন এবং তাঁর অনুসারীরা এই কাজে জড়িত ছিলেন। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বালু তোলা এবং বেচাবিক্রি চলে গেছে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের হাতে। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে এস এম আল মামুন ও তাঁর অনুসারী বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাদাগাত উল্লাহ মিয়াজীর বিরুদ্ধে বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া মাদার স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেমও বালু তুলতেন। অবৈধভাবে বালু তোলার দায়ে ২০২২ সালে এই চারজনকে পরিবেশ অধিদপ্তর জরিমানা করেছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিরা ঘাট, আলেকদিয়া ও আকিলপুর এলাকায় দেখা যায়, উপকূলের পানিতে পাঁচ–ছয়টি ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কাজ চলছে। বালু তুলে তা ভাসমান বাল্কে রাখা হয়। এরপর তিনটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এই বালুগুলো খালাস করা হয়। সেখান থেকে বালু বিক্রি চলে। এই তিনটি ইয়ার্ড হচ্ছে ‘বারআউলিয়ার রাইজিং এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘রাইজিং অ্যাডভান্স’ এবং ‘কুমিরার সেভেন বি ইয়ার্ড’। ‘রাইজিং স্টিল’ এবং ‘প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস লিমিটেড’ নামে বালু তোলার দুটি অনুমতিপত্র রয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও